বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
৩১

৮০ বছরের প্রেমের সমাধি

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৯  

জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে সৃষ্টিকর্তার হাতে। আর কথায় বলে, বিয়ে নাকি সাত জন্মের বাঁধন। সে কথাই যেন জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিলেন ৮০ বছর ধরে একসঙ্গে থাকা তামিলনাড়ুর এক দম্পতি। 

আচমকা স্বামীর ৮০ বছরের অটুট ভালবাসার মৃত্যু মানতে পারেননি স্ত্রী। প্রিয়জনের বুকে মাথা রেখে কাঁদতে কাঁদতেই সংজ্ঞা হারালেন এক বৃদ্ধা। স্বামীর মৃত্যুর আধঘণ্টার মধ্যেই প্রাণ হারালেন শতবর্ষ ছোঁয়া স্ত্রীও। 

ভেট্রিভেল এবং পিচাই তামিলনাড়ুর পুডোকোট্টাইয়ের বাসিন্দা। পেশায় কৃষক ভেট্রিভেল জীবনের ১০৪টি বসন্ত কাটিয়ে ফেলেছেন। পিচাই তার থেকে মাত্র চার বছরের ছোট। প্রায় আশি বছর আগে ঘর বাঁধেন দু’জনে। তারপর থেকে আর কেউ কখনই আলাদা থাকেননি। জীবনের ভাল সময় যেমন একসঙ্গে কেটেছে তেমনই আবার দুঃসময়ে দু’জন দু’জনকে আগলে রেখেছেন। 

ঝগড়াঝাটি হয়েছে কিন্তু একা রেখে কেউ দূরে সরে যাননি। বয়স বেড়েছে যত প্রেম যেন ততই গাঢ় হয়েছে।

বর্তমানে বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যান দু’জনেই। দিনকয়েক শরীরও ভাল যাচ্ছিল না তাদের। আজ এ রোগ তো কাল সেটা যেন লেগেই ছিল। এহেন ভেট্রিভেলের সোমবার রাতে বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। চিকিৎসকরা বৃদ্ধকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়ার পরই বাড়ি নিয়ে চলে আসা হয় ভেট্রিভেলের নিথর দেহ। যার সঙ্গে আশি বছরের সংসার তার মরদেহ দেখে ডুকরে কেঁদে ওঠেন পিচাই। তাকে আগলে রাখতে পারছিলেন না কেউই। হাপুস নয়নে স্বামীর বুকে মাথা রেখে কাঁদতে থাকেন তিনি। আচমকা ভেট্রিভেলের মৃত্যুতে চোখের পানির বাঁধ মানছিল না তার সন্তান, নাতি-নাতনিদেরও।

আবেগঘন মুহূর্তের মাঝে আচমকাই জ্ঞান হারান পিচাই। খানিকক্ষণ তার পরিজনেরা জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে বিশেষ লাভ না হওয়ায় চিকিৎসককে খবর দেয়া হয়। চিকিৎসক দৌড়ে আসেন। তবে আশার বাণী শোনাতে পারেননি তিনি। কারণ, ততক্ষণে মৃত্যু হয় পিচাইয়েরও। 
দাদার মৃত্যুর মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে দাদিকে হারিয়ে যেন কথা বলার ক্ষমতাও চলে যায় তার তেইশজন নাতি-নাতনি। বাবা-মাকে হারিয়ে মাথার ঠিক রাখতে পারছেন না তার ছেলে-মেয়েরাও।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর