শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭   ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
৫৯

হালদায় মাছের ডিম সংগ্রহ শুরু, উৎসবমুখর পরিবেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ মে ২০২০  

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছেড়েছে। হালদা নদীতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, বালু উত্তোলন, ড্রেজার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল বন্ধ থাকা এবং নদীতে ব্যাপক হারে রেণু পোনা অবমুক্ত করার কারণে নদীতে মা মাছের মজুদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলে মৌসুমের সময় মা মাছের ব্যাপক আনাগোনাও লক্ষ্য করা গেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নদীতে ভাটার সময় আজিমের ঘাট, কাগতিয়ার ঠেক, নাপিতের ঘাট, কুমারখালী, রামদাশ মুন্সিরহাট খাড়ির মূখে মা মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে।

শুক্রবার সকাল থেকে মা মাছ নদীতে ডিম ছাড়া শুরু করলে ও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ডিম ছাড়ার পরিমাণও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

গত বছরের চেয়ে ডিমের পরিমাণ এবার বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিম আহরণকারীরা চলতি অমাবস্যার তিথির জো তে ডিম ছাড়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন।

সে কারণে জো-র শুরু থেকে ডিম আহরণকারীরা নৌকা, ডিম আহরণের সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে পালাক্রমে পাহারায় ছিলেন।

উল্লিখিত এলাকায় নমুনা ছাড়ার বিষয়টি আহরণকারীদের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে সকালে নদীতে ডিম আহরণের জন্য নেমে পড়েন ডিম আহরণকারীরা।

ডিম আহরণকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বৈশাখ মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার দুইটি তিথি ছিল। এ সময় বজ্রসহ হালকা ও ভারী বর্ষণও হয়েছিল। বজ্রসহ বৃষ্টির আলামত দেখে ডিম আহরণকারীরা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়বে বলে এ প্রত্যাশা নিয়ে ডিম আহরণকারীরা সরঞ্জাম নিয়ে নদী পাহারায় ছিল। কিন্তু মা মাছ নদীতে ডিম ছাড়েনি।

জৈ্যষ্ঠ মাসের অমাবস্যার এ তিথির মধ্যে ডিম ছাড়বে বলে আশা করেছিল ডিম আহরণকারীরা। কিন্তু বৃষ্টির কোনো আলামত দেখতে না পেয়ে এবারও ডিম ছাড়বে কিনা এ নিয়ে ডিম আহরণকারীরা সন্ধিহান ছিল।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। দিবাগত মাঝ রাতে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। কিন্তু কোনো বজ্রপাত ছিল না। এর মধ্যে ও বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হঠাৎ করে মা মাছ নদীর বিভিন্ন স্থানে ডিমের নমুনা ছেড়েছে।

নমুনা ছাড়ার খবর পেয়ে ডিম আহরণকারীরা ডিম আহরণের সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নেমে পড়ে।

শুক্রবার সকালে নদীতে জোয়ার শুরু হলে মা মাছ হালদা নদীর মাছুয়াঘোণা হ্যাচারী সংলগ্ন স্লুইস এলাকা, আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাট, আমতুয়া, কাগতিয়ার ঠেক, কুমারখালী, ব্রিকফিল্ড ও রামদাশ মুন্সিরহাট, খাড়ির মুখ সংলগ্ন এলাকায় ডিম ছাড়তে শুরু করে।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে ডিম ছাড়ার পরিমাণও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

এবার ২৮০টি নৌকায় ৬১৫ জন ডিম আহরণকারী নৌকা নিয়ে নদী থেকে ডিম আহরণ করেছেন।

হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হালদা নদীর বিভিন্ন স্থানে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। শুক্রবার সকালে মা মাছ নদীর বিভিন্ন স্থানে ডিম ছাড়া শুরু করলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ডিম ছাড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। হালদা নদীতে এবার মা মাছের মজুদ বেশি।


 

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর