রোববার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬   ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
৭৪

হারানো মোবাইলে সৌরভ হত্যার অনেক প্রশ্নের উত্তর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯  

সৌরভ হত্যার ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও জানা যায়নি হত্যার রহস্য। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত সেই প্রশ্নেরও জবাব মিলছে না। এ হত্যা মামলায় পুলিশ সন্দেহভাজন ৪ জনকে গ্রেফতার করলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে হতাশ সৌরভের পরিবার। তবে পুলিশের দাবি বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকলেও তদন্ত এগোচ্ছে সঠিক পথেই।

গত ২০ নভেম্বর সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ির পাশের পুকুর পাড় থেকে হাত পা বাধা অবস্থায় সৌরভের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হারামিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দৌলতখাঁর বাড়ির মোসাদ্দেক মাওলার দ্বিতীয় পুত্র। ২২ নভেম্বর অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে সৌরভের ভাই মেহেদি হাসান একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সৌরভের পরিবারের সদস্যরা জানান, মামলার বিষয়ে প্রথম দিকে বেশ তৎপরতা দেখা গেলেও কিছুদিন যেতেই তা ভাটা পড়েছে। মামলার সাথে প্রভাবশালী কারও জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে এমনটা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

জানা গেছে, সৌরভ তার বন্ধুদের বলেছিল- তার মোবাইলে এমন কিছু ডকুমেন্ট আছে, যা প্রকাশ পেলে বেশ কয়েকজন বড় মাপের মানুষ ফেঁসে যাবে। ওসব ডকুমেন্টই কাল হয়েছে সৌরভের জন্য। এ হত্যার পেছনে প্রভাবশালী কেউ জড়িত থাকায় নিজেদের বাঁচাতে মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করছেন দাবি পরিবারের ।

সৌরভের ভাই মেহেদি হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারকৃতদের নাম আমাদের জানানো হয়নি। তাদের ৪ জনকে রিমান্ডে নিলেও প্রধান সন্দেহভাজনকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদই করতে পারেনি পুলিশ। তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সৌরভ হত্যার কারণ জানতে পারলাম না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্দ্বীপ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, এটি একটি ক্লু-লেস মামলা। এর পরেও সৌরভ ও তার বন্ধু বান্ধবদের কল লিস্ট চেক করে আমরা ৪ জনকে গ্রেফতার করেছি। এদের মধ্যে একজন পুরুষ ও ৩ জন মহিলা আছেন। আমরা দুই দফায় তাদের ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করছিনা।

মামলার তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, নারী ঘটিত ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন হওয়ার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে আমরা তদন্ত করছি। আমাদের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানে চাইলেও রাত ১২টার পরে কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। নেটওয়ার্ক সমস্যা আছে, প্রযুক্তির ব্যবহারও সেভাবে করা যায় না। তার পরেও আমরা বেশ ভালই এগিয়েছি। কিছু সময় হয়তো লাগবে। তবে আমরা আশাবাদী।

প্রভাবশালী কাউকে বাঁচাতে মামলা ধামাচাপার চেষ্টা সৌরভ পরিবারের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা খুন হয়েছে। অনেক কথাই আসবে। আমরা সৌরভের মোবাইলটা খুঁজছি। সেটি পেলে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শরীফুল আলম বলেন, ২০ দিনে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাদীপক্ষ প্রতিদিনই থানায় আসছেন। তাদের কাছ থেকে কিছু জানতে হলে তদন্ত কর্মকর্তা জেনে নিচ্ছেন। তারাও প্রতিদিন খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এর পরেও যদি তারা অভিযোগ করেন তদন্তে সন্তুষ্ট না, তাহলে কি করার থাকতে পারে! তবে তারা অনেকবার বলেছেন আমাদের তৎপরতায় সন্তুষ্ট।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর