শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
সর্বশেষ:
ফোকফেস্টের পর্দা উঠছে আজ গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা চলছেই, নিহত বেড়ে ৩২ ইডেনে বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট দেখতে হাসিনাকে চিঠি মোদির শুরু হলো আয়কর মেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা ‘দেশ ক্ষুধামুক্ত হয়েছে, এবার লক্ষ্য দারিদ্র্যমুক্ত করা’
৩৩৯

হত্যা করতে নুসরাতকে ছাদে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার পপির

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০১৯  

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম উম্মে সুলতানা পপি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গতকাল শুক্রবার রাতে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে উম্মে সুলতানা পপি। সে শম্পা ছদ্মনামে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। অধ্যক্ষ সিরাজের ভায়রার মেয়ে সে।

পপি ওই দিন বোরখা, কালো নেকাব ও কালো চশমা পরিহিত ছিল। সে পরীক্ষার হলে গিয়ে নুসরাতকে বলেছিল, ‘আমি শম্পা—ছাদে তোমার বান্ধবী নিশাতকে কারা যেন মারধর করছে। তুমি দ্রুত চলো।’ এ কথা শুনে নুসরাত দ্রুত দৌড়ে শেল্টার হাউসের ছাদে যায়। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের হোসেন শাখাওয়াত, জাবেদ হোসেন ও মণি। এখানে মণি ও পপি নুসরাতের হাত-পা তার ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে। এতে বাকিরা সহযোগিতা করে। পরে তাঁর গায়ে কেরাসিন দেয় শামীম আর আগুন দেয় জাবেদ। ঘটনার পর হট্টগোলের মধ্যে পপি ও মণি আবার নিচে নেমে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে পপিকে আদালতে নেওয়া হয়। তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন বিচারক শরাফ উদ্দিন আহমেদ। রাত ৯টায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়। এর আগে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে পপি জানায়, অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে সে নুসরাত হত্যা পরিকল্পনায় অংশ নেয়।

মামলার আরেক আসামি ও কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত জাবেদ হোসেনকেও সাত দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বিকেলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে আনা হয়। কিন্তু আদালতে আসার পর সে বয়ান দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক শরাফ উদ্দিন তিন দিন মঞ্জুর করেন।

এছাড়া একইদিন বিকেল ৫টার দিকে পৌর সদরের তাকিয়া রোডের বাসা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনকে আটক করা হয়। 

আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেনী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রুহুল আমিনের নাম এসেছে। শামীমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাঁর ছয় সেকেন্ডের কথোপকথনের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। তবে নুসরাত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে রুহুল আমিনকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান এই পিবিআই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, শামীম জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে, নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর বিষয়টি সে রুহুল আমিনকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছিল। তখন রুহুল আমিন তাকে এলাকা থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, গতকাল রুহুল আমিনকে আটকের আগে কয়েক দিন ধরে তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। গত দুই দিন তিনি বাড়ি থেকে তেমন একটা বের হননি। সোনাগাজী জিরো পয়েন্টে দলীয় কার্যালয়েও তাঁকে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল মাদরাসার একটি কক্ষে তাঁকে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায়ও যোগ দেননি রুহুল আমিন।

এর আগে একই অভিযোগে সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় বোরকা ও নেকাব পরা চারজন তাকে বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়। গত ১০ এপ্রিল নুসরাত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হামলায় সরাসরি জড়িত চারজনসহ এ পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে জবানবন্দি দিয়েছে পাঁচজন। আসামিদের মধ্যে কয়েকজনের রিমান্ড চলছে

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর