বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
সর্বশেষ:
ফোকফেস্টের পর্দা উঠছে আজ গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা চলছেই, নিহত বেড়ে ৩২ ইডেনে বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট দেখতে হাসিনাকে চিঠি মোদির শুরু হলো আয়কর মেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা ‘দেশ ক্ষুধামুক্ত হয়েছে, এবার লক্ষ্য দারিদ্র্যমুক্ত করা’
৭৬০০

শিক্ষাগত সনদ দেখাতে না পারায় মোর্শেদ খানের মনোনয়ন বাতিল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০১৮  

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সাংসদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোর্শেদ খানের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষাগত সনদ দেখাতে না পারায় ও  ঋণ খেলাপির কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।

 

একই আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী মইনুদ্দিন খান বাদল এবং নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

২ ডিসেম্বর, রোববার সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।

 

রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম মোর্শেদ খানের শিক্ষাগত সনদ উপস্থাপন করতে না পারায় এবং তার মালিকানাধীন কোম্পানি প্যাসিফিকের কাছে টেলিফোন ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৩০ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। 

 

মোর্শেদ খানের মনোনয়ন বাতিলে খবরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে। তারা মনে করেন মনোনয়ন বাতিলের মধ্য দিয়ে বিএনপি থেকে একজন বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ নেতার বিদায় হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতির মাঠে দীর্ঘ ১২ বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পরও দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা আগেই গণপদত্যাগের হুমকি দিয়ে তার পক্ষে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছিলো। দলের একটি অংশ তার প্রার্থিতা বাতিলে তদবির করেছিলো। 

 

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, চট্টগ্রামের রাজনীতি থেকে দূরে থাকা মোর্শেদ খান নেতাকর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেননি। সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে চট্টগ্রাম-৮ আসনের নেতাকর্মীরা ১৫ থেকে ২০টি পর্যন্ত মামলার আসামি হয়ে কারাগারে গিয়েছেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের কোনো খোঁজ নেননি এমনকি আর্থিক সহায়তাও করেননি। বিষয়টি দলের হাইকমান্ড অবহিত ছিল। ফলে দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে থাকবে তাদের মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন দলের চেয়ারপারসন। বর্তমানে এ আসনের অধীন থানা ও ওয়ার্ড কমিটির সব নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ফলে ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করলে ভোটের দিন কর্মীরা কোনো সুখের পায়রার জন্য ঝুঁকি নেবেন না।

 

এদিকে মোরশেদ খানের মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার বিকেলে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে বিএনপির একদল নেতাকর্মী জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর নাজিম উদ্দিন। বৈঠক থেকে নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেয়া হয়। 

 

নাজিম উদ্দিন বলেন, বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শুধু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এ নির্বাচনকে আমরা আন্দোলন হিসেবে দেখছি। যেহেতু এটি আমাদের আন্দোলন, তাই গত ১২ বছর ধরে যারা রাজপথে ছিলেন তাদের দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। আবু সুফিয়ান রাজপথে ছিলেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বুঝতে পেরেছে সত্যিই বিএনপি আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাচ্ছে।

 

শিল্পপতি এম মোরশেদ খান ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় কারাগারে গিয়ে দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। তার বদলে মনোনয়ন দেওয়া হয় পোশাক ব্যবসায়ী এরশাদ উল্লাহকে। কিন্তু মোরশেদ খান ও তার অনুসারীদের বিরোধিতায় এরশাদ উল্লাহ জিততে পারেননি বলে বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর