বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
সর্বশেষ:
ফোকফেস্টের পর্দা উঠছে আজ গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা চলছেই, নিহত বেড়ে ৩২ ইডেনে বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট দেখতে হাসিনাকে চিঠি মোদির শুরু হলো আয়কর মেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা ‘দেশ ক্ষুধামুক্ত হয়েছে, এবার লক্ষ্য দারিদ্র্যমুক্ত করা’
৪৩৯৭

বঙ্গবন্ধু টানেলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০১৯  

কর্ণফুলী নদীর নিচে নির্মিতব্য দেশের প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’ এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ ফেব্রুয়ারি টানেল উদ্বোধন করতে গিয়ে পটিয়া পর্যন্ত এই সংযোগ সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেন। সড়কটি নির্মিত হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং পার্বত্য এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি টানেলে সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত হতে পারবেন।

বর্তমান প্রকল্পে টানেলটি পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে ওইপাড়ে আনোয়ারা প্রান্তে গিয়ে শেষ হবে। সেখান থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেই বিদ্যমান প্রকল্পে। ফলে টানেলের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকার বাসিন্দারা। এর প্রেক্ষিতেই প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদ হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু টানেল দিয়ে গাড়ি চলবে আগামী ২০২২ সালে কিন্তু টানেলের সাথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সরাসরি সংযোগ সড়ক রাখা হয়নি বর্তমান প্রকল্পে। এখন আনোয়ারা থেকে শিকলবাহা ক্রসিং (ওয়াই জংশন) পর্যন্ত সড়ক রয়েছে কিন্তু সেটি অনেক ছোট। টানেল চালু হলে শুধুমাত্র সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে বিপাকে পড়তে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সেই বিবেচনায় আমরা এক বছর আগেই আনোয়ারা প্রান্তের কালাবিবির দিঘি থেকে ওয়াই জংশন পর্যন্ত ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার দুই লেন ধীরগতিসহ ছয় লেনে সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেটি অনুমোদনের পর এখন পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।’

‘এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু পটিয়া পর্যন্ত নতুন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন; এই কারণে নতুন করে প্রকল্প নিতে হবে অথবা সংশোধন করতে হবে।’-যোগ করেন তিনি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের জন্য সরকার ডিটেইল ডিজাইন-বাজেটসহ সবকিছু চূড়ান্ত করেছে। এখন প্রকল্পে অর্থায়নের অপেক্ষায় আছে। শিগগিরই অর্থায়ন চূড়ান্ত হলে কাজ শুরু হবে। চার লেনের সেই সড়ক শুরু হবে শিকলবাহা ওয়াই জংশন থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত। ফলে নতুন করে পটিয়া বাইপাস পর্যন্ত সংযোগ সড়কের প্রয়োজন হবে না। আনোয়ারা থেকে ওয়াই জংশন পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করলেই হবে।

এদিকে ২০২২ সালে বঙ্গবন্ধু টানেল দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু হলে আনোয়ারা প্রান্ত সরাসরি উপকৃত হবে; এই এলাকা ঘিরে শিল্পবিপ্লব হবে। তবে উপকূলীয় তিন উপজেলা বাঁশখালী-পেকুয়া-চকরিয়ার সঙ্গে উপকূল দিয়ে টানেলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলীয় সড়ক কাম বেড়িবাঁধ নির্মাণ নামে দীর্ঘমেয়াদি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে; এজন্য চীনের অর্থ সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। 

তবে টানেল চালু হলে এই অঞ্চলের বাসিন্দারা সরাসরি সুফল পাবে না। এসব এলাকার লোকদের টানেল ব্যবহার করতে হলে বিদ্যমান দেড় লেনের সড়ক দিয়ে পেকুয়া-বাঁশখালী হয়ে আনোয়ারার কালাবিবির দিঘিতে গিয়ে টানেলের সংযোগ সড়কে উঠবেন।

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘সরকার মহেশখালী ঘিরে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে; তাদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য উপকূল দিয়ে একটি সড়ক নির্মাণ করা জরুরি। মহেশখালী ঘিরে গভীর সমুদ্রবন্দরের পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য একটি নিরবচ্ছিন্ন সড়ক নির্মাণ করতে হবে; যেটি টানেল দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কিংবা ঢাকায় পৌঁছতে পারে। এখনই পরিকল্পনা না নিলে ২০২২ সালের টানেলের সুবিধা পাওয়া যাবে না।’

আনোয়ারার সঙ্গে সরাসরি সংযোগের পরিকল্পনা নিলেও কক্সবাজার সড়ক বিভাগ এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পারেনি। জানতে চাইলে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘কক্সবাজারের খুরুসকূল থেকে চকরিয়ার ঈদমনি পর্যন্ত দুই লেনের একটি সড়ক নির্মাণের জন্য ডিপিপি তৈরি করছি আমরা। এটি নির্মিত হলে চকরিয়ার উপকূলীয় বাসিন্দারা পেকুয়া টৈটং হয়ে বাঁশখালী-আনোয়ারায় গিয়ে যুক্ত হবেন।’ কিন্তু দুই লেনের সড়ক কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে দুই লেন হোক তারপর চার লেন।

এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বঙ্গবন্ধু টানেলের বহুমুখী সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে আরও একটি প্রকল্প নিয়েছে। পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী-টৈটং (পিএবিটি) আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে এর সংযোগ করা হচ্ছে। বাঁশখালীতে চীন যে বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করছে এর যোগাযোগ সহজ করতে চীনা দূতাবাস সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এই সড়কটি বাস্তবায়নের জন্য ডিও লেটার দিয়েছে।

বিষয়টি স্বীকার করে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে মতামত চাওয়া হলে, আমরা ইতিবাচক মতামত দিয়েছি।’ এই সড়ক চালু হলে তৈলারদ্বীপ হয়ে সরাসরি টানেলের সংযোগ সাধিত হবে।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর