রোববার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬   ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
৬৮

‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

আজ পহেলা ফাল্গুন। শীতের জীর্ণতা সরিয়ে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। বাতাসে বসন্তের আগমনী বার্তা। গাছ থেকে ঝরে পড়ছে পুরাতনি যতো ধূসর পাতা। আর তার জায়গা বদল করছে সবুজ কিশলয়। আচানক কোথাও ডেকে উঠছে কোকিল। রঙে-বেরঙের ফুলে ভরে উঠছে বাগানগুলো। দীর্ঘ শীতের কুয়াশা মোড়ানো প্রান্তর পাড়ি দিয়ে অবশেষে আমাদের দোরগোড়ায় এসেছে ফাল্গুন। এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত!

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পহেলা ফাল্গুন। বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসেবে রদবদল হওয়ায় ১৩ ফেব্রুয়ারির জায়গায় এখন থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারিই পালিত হবে পহেলা ফাল্গুন। একই দিনেই পালিত হবে ভালোবাসা দিবসও। ফলে যুগপৎ ভালোবাসা আর বর্ণালী রঙের বাহার নিয়ে এসেছে এ দিন।  

শুধু এই দিন নয়, ১৯৭১ সালের কয়েকটি ঐতিহাসিক দিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি। যার ফলে ইংরেজি দিন ঠিক থাকলেও কিছুটা এদিক সেদিক হয়েছে বাংলা মাসের তারিখ। নতুন এই বর্ষপঞ্জিতে জাতীয় দিবসের বাংলা তারিখ এখন থেকে একই থাকবে প্রতিবছর।

ঋতুরাজ বসন্ত প্রকৃতিতে ফিরে আসায় যে আনন্দ, তা পালন করা হয় অনেক দেশেই। মজার বিষয় হলো আমরা রঙিন পোশাকে বসন্ত বরণ করি, পাশের দেশ ভারতে সাদা পোশাকে বসন্ত বরণ হয়।

বসন্তের প্রথম আভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলের গাছে ঝুলিয়ে দেয়া হয় শুভকামনা হিসেবে। হানামি বা চেরি ব্লসম ফেস্টিভ্যাল জাপানের বসন্ত উৎসব। ফুলে ভরে থাকা চেরিগাছের নিচে সবাই জড়ো হয়। 

ভালোবাসা দিবস কিভাবে এসেছে তা নিয়ে নানান বিতর্ক রয়েছে। কথিত আছে, ‘ভ্যালেন্টাইন’ নামে এক কিংবদন্তি তৃতীয় শতাব্দীর সময় রোমের একজন যাজক ছিলো। সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস সিদ্ধান্ত নেয় যে বিবাহিত পুরুষদের তুলনায় অবিবাহিত পুরুষ, সৈন্য হিসেবে বেশি ভালো। তাই তিনি তরুণ পুরুষদের জন্য বিবাহ নিষিদ্ধ করেন।

‘ভ্যালেন্টাইন’ রাজার অবিচার বুঝতে পেরে গোপনে তরুণ প্রেমিক ও প্রেমিকাদের বিয়ে দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিষয়টি রাজা জানতে পারেন এবং ক্ষুদ্ধ হয়ে ভ্যালেন্টাইনকে হত্যার নির্দেশ দেন। তার মৃত্যু কার্যকর হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। আর এরপর থেকে ‘ভ্যালেন্টাইনের’ প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন’স ডে বা ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।

এদিকে এ বছর ভালোবাসা দিবস ও প্রথম বসন্ত একই দিন। আর তাই ভালোবাসা দিবস ও বসন্তবরণে বর্ণিল প্রস্তুতি চলছে রাজধানীজুড়ে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও বসন্তবরণ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্ততি নেয়া হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন নগরীতে। শাহবাগের ফুলের দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত ফুল মজুদ করেছে বিক্রেতারা। ফুল আর উপহারের দোকানে বেড়েছে ভিড়ও।

বিশেষ এই দিনটিকে ভালোবাসার সম্পর্কগুলোর আরেকটু যত্ন নেবার উপলক্ষ্য হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। আবার কারো কারো মতে ভালোবাসার নেই কোনো সীমানা, নেই বিশেষ কোনো দিন। ফাগুনের নবীন আনন্দ এ ভালোবাসাকে ছড়িয়ে দিক মানুষ থেকে মানুষ, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম, জাগুক বিশ্ব মানবতা- এমনটাই প্রত্যাশা সমাজবিদদের।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর