বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৭ ১৪২৬   ০৭ শা'বান ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
৪৩৭০

তরুণ ভোটারদের সাথে মির্জা ফখরুলের প্রতারণা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮  

গতকাল প্রকাশিত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি ভিডিও বার্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে সারাদেশে। ধানের শীষে ভোট দিতে তরুণ সমাজকে আহ্বান জানানোর একটি ভিডিও গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে সারাদেশে যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে।

ভিডিওতে দেখা যায় মির্জা ফখরুল ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। এসময় তিনি বলেন তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং দেশ স্বাধীনে যুদ্ধ করেছেন। পাকিস্তানী সৈন্যদের ‘পান্জাবী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন শক্তিশালী মিলিটারীকে হারানো যাবে কেউ কল্পনাও করেনি। যারা এই ভয় পেয়েছিলো তারাই আজ গণতন্ত্র বিনষ্ট করছে বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।

তরুণ সমাজকে ভোটের দিন মাঠে থেকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে বলেন বিএনপির এই নেতা যেন ভোট ডাকাতি না হয়। আওয়ামীলীগ ভোট চুরি করবে এই কথাও বলেন মির্জা ফখরুল। এসময় তিনি আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে বলেন।

ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবার পরপরেই তীব্র সমালোচনায় ছেয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো।ফেসবুক ও টুইটারে তরুণ ভোটারদের নানারকম ফেসবুক স্ট্যাটাস ও টুইট দেখা গেছে।

তমা মির্জা নামের নর্থসাউথ ভার্সিটির এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মির্জা ফখরুলের নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করার বিষয়ে লিখেন “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলছেন । তাহলে কেন তার দল স্বাধীনতাবিরোধী জামাত শিবিরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে?”

রাহুল খান নামে ইস্ট ওয়েস্ট ভার্সিটির এক ছাত্র ফেসবুক স্ট্যাটাসে একই প্রসঙ্গ টেনে লিখেছেন “উনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন  কিন্তু তার বাবা তো একজন চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন। তাহলে কি ছেলে তার বাবার প্রদর্শিত পথে হাটার জন্যই স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে জোটগঠন করে নির্বাচন করছেন?

আর পাঞ্জাবী বলে পাকিস্তানীদের তিনি কি বাঁচাতে চাইলেন? তরুণ দের সাথে বেইমানি আর কতো?”

ইমন হাসান নামে ঢাবির এক শিক্ষার্থী তার টুইটে মির্জা ফখরুলের ভোট ডাকাতি ও সন্ত্রাসের আশঙ্কা প্রসঙ্গ টেনে বলেন “মাগুরার উপনির্বাচনের ভোট ডাকাতি কারা করেছিলো?ছাত্রদলের নেতাদের প্রকাশ্যে ভোট ছিনতাইয়ের ঘটনা ভুলে গেছেন? আর সন্ত্রাসের সব মাত্রাকে তো ২০১৩-১৪ সালেই অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে ছাড়িয়ে গেছে বিএনপি। আপনার মুখে এসব মিথ্যাচার মানায় না”

তানিম ফয়সাল নামে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফখরুলের করা গণতন্ত্র নেই এই মন্তব্যের বিষয়ে লিখেন “২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় দেশে গণতন্ত্র ছিলো? নাকি শেখ হাসিনাকে ৫ কি:মি হেটেও সিএমএইচে প্রবেশ করতে না দেয়ার সময় গণতন্ত্র ছিল? সারাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার সময় কোথায় ছিলো আপনাদের গণতন্ত্র?”

এছাড়াও  ভিডিও যেসব সাইটে আপলোড হয়েছে সেখানের কমেন্ট বক্সে বেশিরভাগ মানুষই মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যকে মিথ্যাচার ও তরুণদের সাথে প্রতারণা বলে আখ্যায়িত করছে।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর