শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৮ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
সর্বশেষ:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক আজ নেদারল্যান্ডসের রাজধানীতে প্রথমবারের মতো মাইকে আজান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার তদন্ত বন্ধ করছে সুইডেন দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
২৯৪১

চট্টগ্রাম-৮ আসনে মাদক ও পতিতা ব্যবসায়ীকে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ ডিসেম্বর ২০১৮  

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান চট্টগ্রাম ৮ বোয়ালখালি আসনের ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ বোয়ালখালি-চান্দগাঁও এলাকার বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

জানা যায়, বিএনপির আমলে এম মোরশেদ খান মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। তার পাতি নেতারা চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করতো। যখন প্রশাসন কাউকে মাদকসহ গ্রেফতার করতো তখন এম মোরশেদ খান থানায় বা পুলিশের উপর মহলে ফোন করে মাদক কারবারিদের মুক্ত করতেন।

 

সূত্রটি আরো জানায়, এম মোরশেদ খান নগরীরর বিভিন্ন পয়েন্টে ক্ষমতায় থাকাকালীন হোটেল খুলে পতিতাবৃত্তির ব্যবসা করাতেন তার নেতাকর্মীদের দিয়ে। বিএনপির আমলে অসহায় নারীদের কাজ দেওয়ার কথা বলে তিনি এসব হোটেলে নারী সাপ্লাই দিতেন বলেও জানায় সূত্রটি।

 

এম মোরশেদ খানের লালশার শিকার বোয়ালখালীর গার্মেন্টস কর্মী খাদিজা জানান, আমি আমার স্বামীর একটি ঝামেলা নিয়ে বিএনপির আমলে এম মোরশেদ খান স্যারের বাসায় যাই। তখন স্যার আমাকে বলে আমাদের পারিবারিক সব সমস্যা সমাধান করে দিবেন। তবে আমাকে একা স্যারের চান্দগাঁও কার্যালয়ে রাত ১০ টায় আসতে বলেছেন। আমি স্যারের কথা মতো স্যারের কার্যালয়ে গিয়ে দেখি সেখানে কেউ নেই। আমি আর এম মোরশেদ খান স্যার ছিলাম। স্যার আমাকে প্রথম বললো তোমার সব সমস্যা সমাধান করে দিবো তবে আমার কিছু শর্ত আছে। তুমি আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করলে সব সমস্যা সমাধান করে দিবো।বলেই স্যার দরজা আটকিয়ে আমাকে নির্যাতন করে। আর বলে যদি কাউকে কিছু বলি তাহলে আমার স্বামিকে এই কুকর্মের ভিডিও দেখাবে। তাই আমি সব সহ্য করেছি। এভাবে এম মোরশেদ খান স্যার আমাকে প্রায়ই তার কার্যালয়ে ডেকে ধর্ষণ করতো।

 

গার্মেন্টস কর্মী খাদিজা জানান, আমি সব হারিয়ে কোন দিক না পেয়ে তার হোটেলে পতিতাবৃত্তির কাজে নেমে পরি। এখন এটাই আমার পেশা। জানতে চাইলে এই প্রতিবেদক মাসিক বেতন কেমন আসে? খাদিজা জানান, প্রতি মাসে ৩০ হাজার আসে আবার কোনো মাসে ২০ হাজারও আসে। খাদিজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এম মোরশেদ খানের কারণে হাজারো মেয়ে আজ এই পেশায় আসতে বাধ্য হয়েছে। আমি তার বিচার চাই।

 

চান্দগাঁও- বোয়ালখালী উপজেলার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত এম মোরশেদ খানকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। বিএনপির আমলে তার অনেক খারাপ রেকর্ড আছে এলাকায়। তাছারা এম মোরশেদ খান বিগত ১০ বছরে কখনো তৃণমূলে এসে একটি প্রোগ্রাম করেননি। এতে মূলত ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঐক্যফ্রন্ট যদি এই আসনে এম মোরশেদ খানকেই চূড়ান্ত রাখে তাহলে এই আসন হাত ছাড়া হওয়ার সম্ভবনা খুব বেশি।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর