শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৮ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
সর্বশেষ:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক আজ নেদারল্যান্ডসের রাজধানীতে প্রথমবারের মতো মাইকে আজান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার তদন্ত বন্ধ করছে সুইডেন দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
২০

চট্টগ্রাম দেওয়ানহাট-বারিক বিল্ডিং সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০১৯  

নগরের ব্যস্ততম বিমানবন্দর সড়ককে যানজট থেকে মুক্ত রাখতে দেওয়ানহাট মোড় থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার (৬ নভেম্বর) থেকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপ পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ তারেক আহমেদ।

তিনি জানান, বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে ব্যাংক পাড়া থাকায় এবং এই সড়ক দিয়ে সিইপিজেড ও কেইপিজেড এর গাড়ি যাতায়াত করায় বিমানবন্দরগামী যাত্রীরা যানজটে পড়ে নাকাল হন। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং সড়ক দিয়ে চলাচল করে। রিকশার কারণে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ বিষয়ে রিকশা মালিক সমিতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা হয়। সবার উদ্যোগে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দেওয়ান হাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত রিকশা চলাচল বন্ধ করা হলেও চৌমুহনী মোড় ও বাদামতলী মোড়ের পূর্ব পশ্চিমে রাস্তা অতিক্রম করতে পারবে রিকশা। তবে মোড়ের একশ গজের মধ্যে কোনও যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না।

সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে এ সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যাত্রীদেরও অবহিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নগরের রিকশা চালকদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট পোশাক সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। এ উদ্যোগ সফল হলে নগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও রিকশা চলাচল বন্ধ করা হবে।

চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত বিমানযাত্রী আসা-যাওয়া করেন। কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত যেতে বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়, দেওয়ানহাট ও আগ্রাবাদসহ আরও কয়েকটি মোড় পার হতে হয় যাত্রীদের। এসব মোড়ে নিত্যদিনের যানজটের পেছনে অন্যতম কারণ রিকশা।

যানজটের কবলে পড়ে অনেক যাত্রী নির্ধারিত ফ্লাইট ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন। জিইসি মোড় থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। স্বাভাবিক গতিতে যানবাহনের মাধ্যমে এ পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট। কিন্তু যানজটের কারণে এই রাস্তা পাড়ি দিতে সময় লাগছে দুই থেকে চার ঘণ্টা।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, সিডিএ এভিনিউ হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রধান সড়ক। এই সড়কে কোনো অবস্থাতেই রিকশা চলাচল করতে দেওয়াটা উচিত নয়। একসময় আগ্রাবাদের শেখ মুজিব রোডে রিকশা চলাচল বন্ধ ছিলো। অজ্ঞাত কারণে ওই নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়ে আবারও রিকশা চলাচল করছে। মাঝখানে একবার রিকশা চলাচল বন্ধ করতে উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি সিডিএ এভিনিউতে অবশ্যই রিকশা চলাচল বন্ধ করা প্রয়োজন। রিকশা কখনো কোনো সভ্য শহরের বাহন হতে পারে না। মধ্যবিত্তরা যেহেতু এ বাহন ব্যবহার করেন তাই রিকশাগুলো অলি-গলিতে থাকুক। কিন্তু রিকশা যাতে প্রধান সড়কে না থাকে সেই উদ্যোগ নিতে হবে। দেওয়ানহাট-বারিক বিল্ডিং সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ রাখার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার সফল বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর