শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
৯২২২

`ক্ষমতায় গিয়ে জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া ১৩ বছর ফিরিয়ে দিবেন` 

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০১৮  

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার কৃতিসন্তান, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ফাঁসির মঞ্চ থেকে বেঁচে যাওয়া প্রতিরোধ যোদ্ধা মুজিব সৈনিক বিশ্বজিত নন্দী ১৯ নভেম্বর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীকে একটি পত্র লিখেছেন।  পত্রে তিনি কাদের সিদ্দিকীকে বলেন, যে জিয়ার হয়ে আজ আপনি মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন, সে জিয়ার সামরিক আদালতে ১৯৭৭ সালের ১৮ মে আমার ফাঁসির রায় হয়। ক্ষমতায় গিয়ে, যদি পারেন, আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সেই ১৩ টা বছর ফিরিয়ে দিবেন। তা না হলে, আপনি আমার কাছে বাকি সারাটি জীবন বিশ্বাসঘাতক হয়েই থাকবেন।' 

কাদের সিদ্দিকীর উদ্দেশ্যে বিশ্বজিত নন্দীর লেখা পত্রটি-

শ্রদ্ধেয় কাদের ভাই,
সালাম নিবেন। জানি, আমাকে এখন আপনি চিনতে পারবেন না। আমি মুক্তাগাছার গোবিন্দপুর গ্রামের বিশ্বজিৎ নন্দী।
পিতা হত্যার প্রতিশোধ নিব বলে, আপনার সাথে অস্ত্র হাতে প্রতিরোধ যুদ্ধে নেমেছিলাম। আপনি বলতেন, "পিতা হত্যার প্রতিশোধ না নিয়ে ঘরে ফিরবেন না।" অথচ আপনি আজ কেবল ঘরেই ফিরেন নি, আপনার ঘরে আজ ঐ খুনিদের আনা-গোনা। একত্রে বসে পরিকল্পনা করেন, কিভাবে মুজিব কন্যার পতন ঘটাবেন। এ দুঃখ ও লজ্জা রাখি কোথায়?

 ১৯৭৬ সালের ১৮ই আগষ্ট দিনটির কথা কী আপনার মনে আছে? অপারেশনে পাঠিয়েছিলেন মুক্তাগাছায়! সেনাবাহিনী আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছিল।

আমাদের আত্মসর্মপণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আরেকটি কলঙ্কের ইতিহাস হোক, তা চাইনি বলে, টানা ৮ ঘণ্টা যুদ্ধ চালাতে গিয়ে আমাদের পাঁচজন সহযোদ্ধা করুণ মৃত্যু হয়। হাতে-পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অথচ আজ আপনিই ওদের কাছে আত্মসমর্পন করে বসে আছেন।

যৌবনের ১৩ টা বছর আমি কাটিয়েছি কারাগারে। ৭টা বছর ছিলাম কনডেম সেলে। যে জিয়ার হয়ে আজ আপনি মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন, সে জিয়ার সামরিক আদালতে ১৯৭৭ সালের ১৮ মে আমার ফাঁসির রায় হয়।

আমি বিশ্বজিৎ ওদের চোখে অপরাধী হলেও, আপনি এখন ওদের কাছে মহামানব। ভালো থাকবেন হে মহামানব। ক্ষমতায় গিয়ে, যদি পারেন, আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সেই ১৩ টা বছর ফিরিয়ে দিবেন। তা না হলে, আপনি আমার কাছে বাকি সারাটি জীবন বিশ্বাসঘাতক হয়েই থাকবেন।

ইতি
বিশ্বজিৎ নন্দী

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর