শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭   ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
৩৭

ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ 

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ মে ২০২০  

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে ঘর নির্মাণ, অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও পরিচালকরা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঈদের ছুটির সময়ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) কর্মকর্তারা সক্রিয় থাকবেন। খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের।

ইহসানুল করিম জানান, লকডাউন পরিস্থিতিতে সরকারি ছুটির দিনেও সবসময় খোলা ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। অনলাইন এবং অফলাইনে নিয়মিত ফাইল দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন। এ ছাড়াও মন্ত্রীসভা, একনেক, বাজেট, ৬৪ জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত সভা, সর্বশেষ বুধবার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিমুহূর্তে তথ্য নিচ্ছেন। তার নির্দেশে ঈদের ছুটির মধ্যেও অফিসের সবাই সক্রিয় থাকবেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকেই করোনা এবং ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি একই সঙ্গে পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সব জেলা-উপজেলা কর্মকর্তাদের সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সচিব ও পরিচালকরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে গত দু'দিন ধরেই উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ব্যস্ত সময় পার করেছেন সংশ্নিষ্টরা।

ত্রাণ বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ লাইন মেরামত, কৃষি ও গবাদি পশু, সড়ক, বাঁধ ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজও চলছে বলে জানানো হয়েছে।

করোনার বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মহামারির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে লড়াইয়ের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার পরিবর্তনের বিষয়েও এতে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিত ইউনাইটেড নেশন্স ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (ইউএনএসক্যাপ)-এর ৭৬তম অধিবেশনে ভিডিওবার্তায় এ কথা বলেন। তিনি জাতিসংঘ সংস্থার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য তিনটি মৌলিক সমুদ্র ইস্যুও প্রস্তাব করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্ব এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি এই ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিকেও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে, মহামারিটি জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার পরিবর্তনের ওপর কিছুটা হলেও আশার আলো দেখিয়েছে।

৭৬তম অধিবেশনের এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- 'টেকসই উন্নয়নের জন্য মহাসাগরে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সহযোগিতা জোরদার করা।' ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগদান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের কথা ছিল। তিনি ভিডিও বার্তাতেই সেখানে বক্তৃতা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে আমাদের অবশ্যই এসক্যাপের মাধ্যমে সমুদ্রের কিছু মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এগুলো হচ্ছে- প্রথমত, ব্লু ইকোনমিতে উন্নত দেশগুলো থেকে জ্ঞান, দক্ষতা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সমর্থন বাড়ানো। দ্বিতীয়ত- অবৈধ, অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য শিকার প্রতিরোধ, প্রতিরোধ ও নির্মূল করার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রচলিত পল্গ্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মৎস্য উন্নয়নে যৌথ গবেষণা প্রয়োজন। তৃতীয় ও সর্বশেষ, গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় আবাস এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা করা এবং ম্যাপিং ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিচিতি শুরু করা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের সম্পদের সর্বশেষ ঠিকানা হিসেবে মহাসাগর এবং সাগর আমাদের জীবন ধারণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং এসক্যাপে স্থায়ী প্রতিনিধি নাজমুল কওনাইন ইউনেস্কাপের ৭৬তম কমিশনের সভাপতির পদে নির্বাচিত হয়েছেন। থাইল্যান্ড সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়। অধিবেশনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্র বিষয়ক ইউনিটের সচিব খুরশেদ আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিভিন্ন বিষয় এবং কমিশনের কাজকর্মে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

পৌরকর্মীদের জন্য ২৫ কোটি টাকা অনুদান : দেশের পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ২৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশের পৌরসভাসভাগুলোর রাজস্ব আদায় সন্তোষজনক পর্যায়ে না থাকায় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। দেশের ৩২৮টি পৌরসভার ১২ হাজার ৫১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত ২০ হাজার পরিচ্ছন্নতা-কর্মী এই অনুদানের সুবিধা পাবেন।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর