বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৭ ১৪২৬   ০৭ শা'বান ১৪৪১

চট্টলার বার্তা

করোনাভাইরাস: মার্কিন সাংবাদিকদের বহিষ্কার করলো চীন

আন্তার্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০২০  

চীনে করোনাভাইরাস নিয়ে অনুসন্ধানরত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সাংবাদিককে বহিষ্কার করেছে চীন। সংবাদমাধ্যম নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিলো দেশটি।

এ সম্পর্কে এক বিবৃতিতে চীন সরকার জানায়, নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং ওয়াশিংটন পোস্টে কর্মরত এই মার্কিন সাংবাদিকদের চীন থেকে বের করে দেয়া হবে।

এছাড়া ভয়েস অব অ্যামেরিকা, টাইম ম্যাগাজিনের কাছেও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চেয়েছে তারা।

চীনের উহান শহরে মহামারি করোনার প্রকোপ দেখা দেয়ার পরপরই এই সাংবাদিকেরা মহামারির ওপর বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করছিলেন।

সাংবাদিক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, চীন এভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে বড় ধরনের ভুল করেছে। আর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে যে, এই বহিষ্কার মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নজিরবিহীন আক্রমণ।

কিন্তু চীন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত চীনা সাংবাদিকদের ওপর আরোপ করা বিধি-নিষেধের জবাবেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন সে দেশের সরকার চালিত সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে ৬০ জন চীনা নাগরিককে ছাঁটাই করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনসহ সারা বিশ্ব যখন করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবেলায় জোর লড়াই করছে, তখন বিশ্বের এই দুটো মহাশক্তিধর দেশের এই যুদ্ধ সেই লড়াইকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এই ভাইরাসটি মোকাবেলা নিয়ে দুটো দেশ শুরু থেকেই একে অপরকে আক্রমণ করে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরইমধ্যে করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলে উল্লেখ করে চীনকে ক্ষুব্ধ করেছে। জবাবে বেইজিং বলছে, এধরনের মন্তব্য করে ওয়াশিংটন চীনকে বদনাম দেয়ার চেষ্টা করছে।

গত বছরের শেষের দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর গোটা চীনসহ বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়ে এটি।

কিন্তু চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন যে, মার্কিন সেনারাই এই ভাইরাসটি চীনে নিয়ে গেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে মার্কিন সাংবাদিকদের মিডিয়া পাস কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত দিতে হবে।

একই সঙ্গে এই সাংবাদিকরা চীনে কী ধরনের কাজ করতেন - সে বিষয়েও তারা বিস্তারিত জানতে চেয়েছে।

বেইজিং-এর এই নিষেধাজ্ঞার ফলে এই সাংবাদিকরা এখন তাদের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বিশেষ এলাকা হংকং ও ম্যাকাউতেও কাজ করতে পারবেন না।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে যে, চলতি বছরের জানুয়ারির দিকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চীন সরকার যখন হন্যে হয়ে কাজ করছিল, তখন মার্কিন গণমাধ্যমগুলো আক্রমণাত্মক লেখনি প্রকাশ করেছে। তার আগের বছরও চীন সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তালিকায় থাকা গণমাধ্যমগুলো।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর