শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৮ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
সর্বশেষ:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক আজ নেদারল্যান্ডসের রাজধানীতে প্রথমবারের মতো মাইকে আজান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার তদন্ত বন্ধ করছে সুইডেন দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
৬৬৯৫

অলির জোট ছাড়ার হুমকিতে রাঙ্গুনিয়ায় নুরুল আলমকে চিঠি দিল বিএনপি 

প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর ২০১৮  

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে অংশ নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে সংগৃহীত মনোনয়ন ফরম প্রত্যাহার করেছে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির ৩ প্রার্থী। জানা গেছে, এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলির বিশ দলীয় জোট ছাড়ার হুমকিতেই নুরুল আলমকে চিঠি দেয় বিএনপি। এছাড়াও বিএনপির নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন ইসলামীক ফ্রন্ট প্রার্থী আহমদ রেজা। 

জোটগতভাবে এলডিপি প্রার্থী নুরুল আলম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন মর্মে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ২০ দলীয় জোট। এর আগে বিএনপির চিঠি পাওয়া তিন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে ইসলামিক ফ্রন্ট প্রার্থী আহমদ রেজা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন আবেদনপত্রে। 

কিন্তু ভেতরের খবর ভিন্ন। সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর খরন্ধীপ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে গত ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হয় নানা নাটকীয়তা। এদিন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, বিএনপির একাংশের আহ্বায়ক শওকত আলী নূর ও অপর অংশের সভাপতি কুতুব উদ্দিন বাহারকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। সর্বশেষে ৭ ডিসেম্বর কুতুব উদ্দিন বাহারকে ধানের শীষ প্রতীকে একক মনোনয়ন দেয় বিএনপি। মনোনয়ন দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আবারো পাল্টে যায় তাদের প্রার্থীতা। ২৪ ঘন্টা না যেতেই পাল্টে দেয়া হয় এই আসনের ধানের শীষের প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত ২০ দলীয় জোটের হয়ে ধানের শীষ ভাগিয়ে নেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি নুরুল আলম।

জানা গেছে, শরীক দল এলডিপি এই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুললেও নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড় ছিলেন বিএনপি প্রার্থীরা। তারা নুরুল আলমকে ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় একাধিকবার প্রার্থী বদল হয়। বিএনপি প্রার্থীরা যেকোন মূল্যে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। কিন্তু ৮ ডিসেম্বর রাতে কর্নেল অলি মির্জা ফখরুলকে ফোন করে হুমকি দেন, এই আসন যদি এলডিপিকে ছাড়া না হয় তাহলে তিনি বিশ দলীয় জোট  থেকে বের হয়ে যাবেন। 

কর্নেল অলির এই হুমকিতে ফখরুল বাধ্য হল বিএনপির প্রার্থী বদল করে আসনটি এলডিপিকে ছেড়ে দিতে। সূত্র জানায়, এমনিতেই আসন বন্টন থেকে নানা বিষয় নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ভাঙ্গার উপক্রম। তার উপর বিশ দলীয় জোট ভেঙ্গে গেলে বিএনপি দুকূল হারাবে। ফলে নিরুপায় হয়েও কর্নেল অলির হুমকির পর বিএনপি প্রার্থী প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন ফখরুল।

দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও এতে নাখোশ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, আবু আহমেদ হাসনাত, শওকত আলী নূর ও কুতুব উদ্দিন বাহার তিনজনই এলডিপির নুরুল আলমের চেয়ে যোগ্য প্রার্থী। কিন্তু শুধুমাত্র জোট রক্ষা করতেই এই আসনটি এলডিপিকে ছেড়ে দেয়া ঠিক হয়নি। এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মন ভেঙ্গে গেছে। 

আবু আহমেদ হাসানের সমর্থকরা জানান, নুরুল ইসলামের মনোনয়ন প্রাপ্তিতে তারা হতাশ। আগামী নির্বাচনে তারা আর সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন না বলেও জানান। 

একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, শওকত আলী নূর ও কুতুব উদ্দিন বাহারের সমর্থকরা। আগামী নির্বাচনে এই প্রার্থীর সমর্থকেরা নিষ্কৃয় থাকবেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কর্নেল অলির হুমকিতে জোট রক্ষা করতে যেয়ে আসনটিতে নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে বিএনপি। এত ত্যাগ স্বীকার করার পরে শুধুমাত্র জট রক্ষার জন্য যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেয়ায় নির্বাচনে আগ্রহ হারিয়েছে বিএনপি কর্মীরা। অপরদিকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের সাথে ১৪ দলীয় জোটের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ। এলডিপিকে মনোনয়ন দেয়ায় এই আসনে বিশ দলীয় জোট তথা ঐক্যফ্রন্টে বিভক্তি জোরদার হল। ফলে এই আসনে বিএনপি জোটের জয়ের কোন সম্ভাবনা অবশিষ্ট থাকল না।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর